ঢাকার এক ছোট ঘরে রাত ১টা। ল্যাপটপের স্ক্রিনে চার্ট উঠানামা করছে, মোবাইলে নোটের মতো করে লেখা হচ্ছে কিছু লাইন, “আজকের মার্কেট কেন ঘুরছে?” নিশাতের বয়স মাত্র ২১। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, কিন্তু স্বপ্নটা বড়, নিজের জ্ঞান দিয়ে মানুষকে শেখাবে, নিজের কনটেন্ট দিয়ে একটা পরিচিতি বানাবে, আর যদি সম্ভব হয়, সেখান থেকেই একটা আয়ও হবে। আগে সে এই স্বপ্নের জন্য ভরসা করত ফেসবুক গ্রুপ, ইউটিউব ভিডিও, কিংবা “ভাইয়া একটা সাজেশন দেন” টাইপ কমেন্ট সেকশনকে। কিন্তু সেগুলোতে একটা সমস্যা ছিল, দেখা যায় সবাই দেখে, সবাই বলে, কিন্তু খুব কম মানুষ সত্যি সত্যি ভ্যালু দেয়। আর আয়? সেটা তো আরও দূরের কথা।
তারপর একদিন সে ঢুকে পড়ে Binance Square-এ। ঢুকেই মনে হলো—এটা শুধু আরেকটা সোশ্যাল ফিড না। এটা যেন একটা বাজারের ভেতরকার লাইভ কথোপকথন। এখানে মানুষ স্ক্রল করে সময় কাটাতে আসে না—অনেকে আসে বুঝতে, শেখার জন্য, আপডেট থাকার জন্য। আর একজন ক্রিয়েটরের জন্য এটিই সবচেয়ে বড় গেম-চেঞ্জার: আপনার লেখা এখানে “হারিয়ে যায় না”, বরং প্রাসঙ্গিক মানুষদের কাছে যায়।
দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের জীবনও ঠিক এই জায়গাতেই বদলেছে। কারণ আমাদের অঞ্চলে প্রচুর ট্যালেন্ট আছে—বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা—সব জায়গায় এমন তরুণ আছে যারা শেখে দ্রুত, ব্যাখ্যা করে সুন্দর, কনটেন্ট বানায় নিখুঁত। কিন্তু বড় সমস্যাটা ছিল সুযোগের প্ল্যাটফর্ম। অনেক সময়ই “অডিয়েন্স আছে, কিন্তু ম্যাচ নেই”; আবার কখনো “ভিউ আছে, কিন্তু ভ্যালু নেই।”
Binance Square সেই গ্যাপটা পূরণ করেছে একেবারে বাস্তবভাবে। এখানে ক্রিয়েটরদের কনটেন্ট শুধু লাইক-কমেন্টের ভেতর আটকে থাকে না—এটা একটা ইকোসিস্টেমের অংশ হয়ে যায়। আপনি যদি স্পট মার্কেট নিয়ে লিখেন, বা ফিউচারস নিয়ে শেখান, বা সাধারণভাবে ক্রিপ্টোকে সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দেন, তাহলে আপনার পাঠকের একটা বড় অংশই সেখানে থেকে সত্যিকারের কাজ করে—শেখে, আলোচনা করে, সিদ্ধান্ত নেয়। এটাই দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের জন্য বড় সুযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ আমাদের অনেকেরই শুরুটা হয় “স্কিল আছে, ক্যাপিটাল নেই” অবস্থায়। এখানে স্কিলটাই মূল সম্পদ।
আর সবচেয়ে বড় বদল এসেছে সেই জায়গায় যেখানে আগে ক্রিয়েটরদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট হতো—রিওয়ার্ড। বহু প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট করা মানে “সম্ভাবনা”—কবে মনিটাইজ হবে কেউ জানে না। কিন্তু Binance Square সরাসরি একটা মডেল এনেছে: Write to Earn। অক্টোবর ২৭, ২০২৫ থেকে এই প্রোগ্রাম আপগ্রেড হয়ে এমন হয়েছে, যেখানে যোগ্য ক্রিয়েটররা তাদের কনটেন্টের মাধ্যমে পাঠকরা ট্রেড করলে ট্রেডিং ফি কমিশন থেকে সর্বোচ্চ ৫০% পর্যন্ত আয়ের সুযোগ পায়।
এখানে ব্যাপারটা শুধু “ইনফ্লুয়েন্স” না—এটা আউটপুট। আপনি ভ্যালু দিলে, তার প্রতিফলনও একটা সিস্টেমে মাপা যায়। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক তরুণের কাছে এটা প্রথমবারের মতো এমন একটা অনুভূতি দিয়েছে: “আমার লেখা সত্যি সত্যি কাজে লাগছে—এবং সেটার ফলও আমি পাচ্ছি।”
কিন্তু Binance Square এখানেই থেমে যায়নি। ওরা বুঝেছে—ক্রিয়েটরদের শুধু আয় করলেই হবে না, একটা গ্রোথ সিস্টেম দরকার। তাই এসেছে CreatorPad—যেটা মূলত ক্রিয়েটরদের জন্য একটা ‘মিশন বোর্ড’ এর মতো। এখানে ভেরিফায়েড ইউজাররা টাস্ক সম্পন্ন করে টোকেন ভাউচার রিওয়ার্ড আনলক করতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে, জানুয়ারি ৮, ২০২৬ থেকে CreatorPad-এ DUSK টোকেন ভাউচার রিওয়ার্ড (৩,০৫৯,২১০ DUSK) আনলকের ক্যাম্পেইন ছিল।
আবার জানুয়ারি ১৬, ২০২৬ থেকে আরেকটি ক্যাম্পেইনে ৩,৫০০,০০০ XPL টোকেন ভাউচার রিওয়ার্ডের কথা ঘোষণা করা হয়।
এই জিনিসটা দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের জন্য আলাদা গুরুত্ব রাখে। কারণ আমাদের অঞ্চলের অনেক ক্রিয়েটরই শুরু করে “একটা ফোন আর একটা ইন্টারনেট” দিয়ে। CreatorPad সেই শুরুর পথটাকে আরও বাস্তব করেছে। আপনার কাছে বড় বাজেট না থাকলেও, ধারাবাহিকভাবে কাজ করলে আপনি সিস্টেমের মধ্যেই প্রগ্রেস করতে পারেন। এটা একটা “ক্যারিয়ার-ভাব” তৈরি করে, শুধু শখের কনটেন্ট বানানো না।
আর গল্পটা আরও মজার হয় যখন আসে Square Points। আগে ক্রিয়েটররা কাজ করত অন্ধকারে, “ভালো করছি তো?” “কে বুঝল?” “আমি কোথায় দাঁড়িয়ে?” Binance Square পয়েন্ট আর লিডারবোর্ডের মাধ্যমে সেই প্রশ্নগুলোর একটা উত্তর দিয়েছে। Square Points-এ আপনার অংশগ্রহণ, কনটেন্টের পারফরম্যান্স এবং কমিউনিটির ইন্টারঅ্যাকশন মিলিয়ে এক ধরনের র্যাঙ্কিং তৈরি হয়। এবং সর্বশেষ আপডেটে Binance জানায়, লিডারবোর্ড র্যাঙ্কিং আরও ভালোভাবে কাজ করার জন্য তারা interaction volume (comments, shares, likes, total views)-কে weighting factor হিসেবে যোগ করছে, যাতে শুধু ভিউ নয়, আসল অর্থপূর্ণ এনগেজমেন্টও ধরা পড়ে।
দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের ক্ষেত্রে এটা বিশাল পরিবর্তন এনে দিয়েছে, কারণ আমাদের অঞ্চলে “কমিউনিটি” সবসময় শক্তিশালী। মানুষ আলোচনা করতে ভালোবাসে, প্রশ্ন করতে ভালোবাসে, আর শেখার সময় কথোপকথনের ভেতর দিয়ে শেখে। Square Points সেই কমিউনিটি-এনার্জিকে সঠিকভাবে মূল্য দিতে পারে। আপনি যদি সত্যি সত্যি মানুষকে সাহায্য করেন, শুধু ভাইরাল পোস্ট না, তাহলে আপনি এগিয়ে যাবেন।
এই প্ল্যাটফর্মের আরেকটা বড় প্রভাব পড়েছে আমাদের তরুণদের আত্মবিশ্বাসে। আগে কেউ যদি ঢাকার বা লাহোরের বা কলকাতার কোনো ছাত্র হতো, তার মনে হতো—“আমি কি আন্তর্জাতিক জায়গায় টিকব?” Binance Square-এ সে দেখে, তার ভাষা, তার স্টাইল, তার ব্যাখ্যাও জায়গা পাচ্ছে। কারণ এখানে মূল ফোকাস: আপনি কতটা পরিষ্কারভাবে ভ্যালু দিতে পারেন। ক্রিপ্টো অনেকের জন্য জটিল মনে হয়, কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিয়েটররা সেটা সহজ করার এক ধরনের ক্ষমতা রাখে, উদাহরণ দিয়ে, গল্প করে, একদম নরম ভাষায় বুঝিয়ে। Binance Square সেই কনটেন্টকে এমন জায়গায় নিয়ে যায় যেখানে শেখার মানুষ আগে থেকেই আছে।
এভাবেই নিশাতের মতো হাজারো তরুণের জীবন বদলেছে। কেউ হয়তো প্রথমবার বুঝেছে যে নিজের লেখা দিয়ে পরিচিতি তৈরি করা যায়। কেউ প্রথমবার দেখেছে যে ধারাবাহিকতা করলে রিওয়ার্ড পাওয়া সম্ভব। কেউ হয়তো প্রথমবার পেয়েছে এমন একটা জায়গা যেখানে তার পোস্ট শুধু স্ক্রলে হারিয়ে যায় না, বরং কমিউনিটির মধ্যে আলোচনায় থাকে। আর সবচেয়ে বড় কথা—এটা তাদের ভবিষ্যৎ দেখিয়েছে একটা নতুনভাবে: “আমি শুধু দর্শক না, আমি অংশগ্রহণকারী। আমি ক্রিয়েটর।”
Binance Square তাই দক্ষিণ এশিয়ার তরুণ প্রজন্মের জন্য একটা নতুন দরজা খুলে দিয়েছে, যেখানে কনটেন্ট মানে শুধুই বিনোদন নয়; কনটেন্ট মানে শেখানো, প্রভাব ফেলা, সুনাম তৈরি করা এবং সুযোগ তৈরি করা। অবশ্যই সব ফিচার সবার অঞ্চলে বা অ্যাকাউন্টে একইভাবে নাও পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু এই দৃষ্টিভঙ্গিটাই বদলে গেছে যে, ক্রিয়েটর হওয়া আর দূরের স্বপ্ন না। এটা এখন একটি বাস্তব পথ।
আজ নিশাত যখন রাত ১টায় নতুন পোস্ট লিখে, সে আর শুধু ভিউয়ের আশায় থাকে না। সে জানে, তার লেখাটা যদি কারও কাজে লাগে, তাহলে সেটা ফিরেও আসতে পারে: কমেন্টে, কমিউনিটিতে, কিংবা ক্রিয়েটর হিসেবে তার নিজের গ্রোথে। আর একজন দক্ষিণ এশীয় তরুণের কাছে, এটাই তো সত্যিকারের পরিবর্তন: ছোট একটা স্ক্রল থেকে শুরু হয়ে বড় একটা পরিচয় গড়ে ওঠা।
#BinanceSquare #Write2Earn #creatorpad #SouthAsia