গত কয়েক বছর ধরে আমরা সবাই ‘ডিসেন্ট্রালাইজেশন’ বা বিকেন্দ্রীকরণের বুলি শুনে আসছি। কিন্তু সত্যি বলতে কি, সাধারণ একজন ইউজার যখন মেটামাস্ক বা ফ্যান্টম ওয়ালেট সেটআপ করতে গিয়ে সেই ২৪ শব্দের সিক্রেট ফ্রেজ লেখে, তখনই তার অর্ধেক উৎসাহ দমে যায়। এরপর শুরু হয় আসল যন্ত্রণা—প্রতিটা ক্লিকের জন্য ‘সিগনেচার’ বা সই দেওয়া। এটাকে আমি বলি ‘ডিজিটাল প্যারালাইসিস’। জাস্ট একটা গেমের আইটেম পিক করবেন? সই দিন। একটা মেসেজ পাঠাবেন? সই দিন। এই বিরক্তি থেকেই জন্ম নিচ্ছে ওয়েব৩-এর প্রতি এক ধরণের বিরাগ।

ফোগো ($FOGO ) কি চাকা নতুন করে আবিষ্কার করছে?

না, এবং এটাই তাদের সবচেয়ে বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত। তারা সোলানার (Solana) সেই পরীক্ষিত সিস্টেমগুলোকেই ব্যবহার করছে যা ডেভেলপারদের কাছে অলরেডি পরিচিত। কিন্তু তাদের আসল ‘ম্যাজিক’ লুকিয়ে আছে Fogo Sessions-এ।

সহজ ভাষায় ভাবুন, আপনি যখন কোনো শপিং মলে ঢোকেন, প্রতিটা দোকানে ঢোকার সময় কি আপনার আইডি কার্ড দেখাতে হয়? না। একবার ঢুকলেন, ব্যস! ফোগো সেশন ঠিক এই ‘টেম্পোরারি পাসের’ মতো কাজ করে।

ওয়ান-টাইম সাইন: আপনার মেইন ওয়ালেট থেকে একবার পারমিশন নিলেন।

সীমিত ক্ষমতা: এই সেশন কি (Key) দিয়ে আপনি কতটুকু ট্রানজ্যাকশন করতে পারবেন বা কতক্ষণ ভ্যালিড থাকবে, তা আপনিই ঠিক করে দিচ্ছেন।

পাসওয়ার্ড-হীন অভিজ্ঞতা: এরপর অ্যাপের ভেতর যত কাজই করুন, আপনাকে আর বারবার ওই পপ-আপ উইন্ডোর ঝামেলা পোহাতে হবে না। ব্যাকগ্রাউন্ডে সব অটোমেটিক হয়ে যাবে।

‘পিউরিজম’ বনাম ‘ইউজার এক্সপেরিয়েন্স’

অনেক ক্রিপ্টো-আঁতেল হয়তো বলবেন, "এতে তো সিকিউরিটির ঝুঁকি আছে!" বা "এটা তো একদম পিওর ডিসেন্ট্রালাইজড হলো না।" তাদের উদ্দেশ্যে আমার একটাই কথা—আপনার টেকনোলজি যদি মানুষের জীবন সহজ না করে বরং জটিল করে তোলে, তবে সেই টেকনোলজি দিয়ে বিপ্লব হয় না, শুধু ল্যাবরেটরির প্রজেক্ট হয়।

ফোগো এখানে একটা চমৎকার ব্যালেন্স এনেছে। তারা সিকিউরিটির জন্য মেইন ওয়ালেটকে আলাদা রাখছে, আর দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য দিচ্ছে ‘সেশন কি’। এতে একজন সাধারণ ইউজার বুঝতেই পারবে না যে সে কোনো ব্লকেচেইন ব্যবহার করছে। তার কাছে এটা হবে স্রেফ একটা স্মুথ অ্যাপ।

আলোর গতির সাথে লড়াই

ফোগো-র ভিশনের আরেকটা ইন্টারেস্টিং দিক হলো তাদের ফিজিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার। সফটওয়্যার লেভেলে তো সবাই কাজ করে, কিন্তু ফোগো কথা বলছে হার্ডওয়্যার আর নেটওয়ার্ক ল্যাটেন্সি নিয়ে। তারা বুঝতে পেরেছে যে, সিগন্যাল ট্রানজিশন যদি ফাস্ট না হয়, তবে কোড যতই অপ্টিমাইজড হোক না কেন, ‘ল্যাগ’ থেকে মুক্তি নেই। এটা অনেকটা মাটির রাস্তা বাদ দিয়ে অপটিক্যাল ফাইবারের হাইওয়ে বানানোর মতো।

শেষ কথা

ওয়েব৩ এখন আর কেবল ল্যাবরেটরির কোনো এক্সপেরিমেন্ট নয়। এটা এখন একটা কন্টেইনার টার্মিনাল হওয়ার পথে। যদি ফোগো-র এই ‘পাসওয়ার্ড-হীন’ এক্সপেরিমেন্ট সফল হয়, তবে হয়তো সেই দিন আর বেশি দূরে নেই যখন সাধারণ মানুষ জানবেও না তারা ব্লকেচেইন ব্যবহার করছে, অথচ এর সব সুবিধাই ভোগ করবে। সই করার ভয় কাটিয়ে এবার হয়তো সত্যিই ‘ইউজার ফ্রেন্ডলি’ এক বিকেন্দ্রীভূত পৃথিবীর দেখা মিলবে।

#fogo @Fogo Official