বাইনান্স বা অন্য কোনো এক্সচেঞ্জে P2P (Peer-to-Peer) ট্রেডিং বর্তমানে ডলার ক্যাশ করার সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম। কিন্তু এই সহজ মাধ্যমটিই আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় কান্নার কারণ হতে পারে, যদি আপনি সামান্য অসতর্ক হন। আজ একটি কমন কিন্তু মারাত্মক ভুল নিয়ে কথা বলব, যা নতুন এবং পুরাতন—উভয় ট্রেডাররাই করে থাকেন।
⚠️ ফাঁদটি আসলে কী?
ধরুন, আপনি ডলার বিক্রি (Sell) করার জন্য অর্ডার দিয়েছেন। বায়ার (Buyer) আপনার অর্ডারটি একসেপ্ট করল। কিছুক্ষণ পর সে আপনাকে ইনবক্সে জানাল— "ভাই টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি, চেক করে রিলিজ দিন।"
সে হয়তো আপনাকে একটি পেমেন্ট সাকসেসফুল স্ক্রিনশট বা আপনার মোবাইলে একটি টাকার SMS ও দেখাল। আপনি সরল বিশ্বাসে বা তাড়াহুড়ো করে নিজের ব্যাংক বা বিকাশ/নগদ অ্যাপ চেক না করেই 'Payment Received' বা 'Release Crypto' বাটনে ক্লিক করে দিলেন।
🚨 ব্যাস! খেলা শেষ। আপনার ডলার বায়ারের কাছে চলে গেল, কিন্তু আপনার একাউন্টে আসলে কোনো টাকাই ঢোকেনি। ওই স্ক্রিনশট এবং SMS টি ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া বা এডিট করা।
✅ বাঁচার উপায়: ডলার সেফ রাখার ৩টি গোল্ডেন রুলস
P2P তে স্ক্যাম থেকে বাঁচতে হলে নিচের ৩টি নিয়মকে শপথ হিসেবে মেনে চলুন:
১. অ্যাপে লগইন করে ব্যালেন্স চেক করুন:
মোবাইলে আসা SMS বা নোটিফিকেশন কখনোই ১০০% বিশ্বাস করবেন না। হ্যাকাররা এখন হুবহু ব্যাংকের বা বিকাশ/নগদের মতো দেখতে ফেইক SMS পাঠাতে পারে। টাকা রিলিজ করার আগে অবশ্যই আপনার ব্যাংকিং অ্যাপ বা মোবাইল ওয়ালেট অ্যাপে লগইন করে দেখুন ব্যালেন্স বেড়েছে কি না এবং 'Available Balance' এ টাকা দেখাচ্ছে কি না।
২. স্ক্রিনশট কোনো প্রমাণ নয়:
মনে রাখবেন, ফটোশপ বা এডিটিং অ্যাপ দিয়ে ১ মিনিটেই যেকোনো ভুয়া পেমেন্ট স্লিপ বা স্ক্রিনশট বানানো সম্ভব। বায়ার যদি স্ক্রিনশট দিয়ে বলে "ভাই প্রমাণ দেখুন"—তবুও বিশ্বাস করবেন না। আপনার অ্যাপের ব্যালেন্সই একমাত্র সত্য প্রমাণ।
৩. তাড়াহুড়ো বা ইমোশনাল ট্র্যাপ এড়িয়ে চলুন:
স্ক্যামাররা আপনাকে মানসিকভাবে চাপ দেবে। তারা বলবে— "ভাই ইমার্জেন্সি রোগী আছে, দ্রুত রিলিজ দেন" বা "টাকা তো পাঠিয়েছি, নেটওয়ার্কের কারণে লেট হচ্ছে, আপনি রিলিজ দিন।"
মনে রাখবেন, টাকা আপনার হাতে না পৌঁছানো পর্যন্ত বায়ারের কোনো ইমোশনাল কথায় কান দেবেন না। বাইনান্স আপনাকে রিলিজ করার জন্য যথেষ্ট সময় দেয়, তাই প্যানিক হওয়ার কিছু নেই।
🛡️ যদি বায়ার টাকা না পাঠিয়েই 'Paid' মার্ক করে?
ভয় পাবেন না। যতক্ষণ আপনি Release বাটনে ক্লিক না করছেন, ততক্ষণ বাইনান্স আপনার ডলার লক (Escrow) করে রাখবে। বায়ার টাকা না পাঠালে:
বায়ারকে মেসেজে বলুন সঠিক প্রমাণ দিতে।
যদি টাকা না আসে, তবে Appeal (আপিল) অপশনে ক্লিক করুন।
বাইনান্স সাপোর্ট টিম এসে বিষয়টি সমাধান করে দেবে।
শেষ কথা
আপনার কষ্টার্জিত ডলার বা টাকা এক সেকেন্ডের ভুলে হারাবেন না। নিজে সতর্ক হোন এবং পরিচিত ট্রেডার বন্ধুদেরও এই বিষয়টি জানিয়ে সতর্ক করুন।
💡 লেখাটি উপকারী মনে হলে শেয়ার করুন এবং এমন আরও সেফটি টিপস পেতে আমাকে ফলো দিয়ে রাখুন।
#BinanceP2P #SafetyTips #ScamAlert #CryptoSafety #BanglaCrypto