শেয়ার মার্কেট, ফরেক্স বা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে ট্রেডিং করে রাতারাতি ধনী হওয়ার স্বপ্ন অনেকেই দেখেন। কিন্তু যখন নিজের কাছে পর্যাপ্ত পুঁজি থাকে না, তখন অনেকেই লোন বা ধার করে ট্রেডিং শুরু করার চিন্তা করেন। শুনতে লাভজনক মনে হলেও, এটি মূলত একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।
কেন ধার করা টাকায় ট্রেডিং করা উচিত নয় এবং এর ভয়াবহ ফলাফল কী হতে পারে, তা নিচে আলোচনা করা হলো।
১. মানসিক চাপ এবং ভুল সিদ্ধান্ত (Psychological Pressure)
ট্রেডিং এমনিতেই একটি মানসিক খেলা। যখন আপনি নিজের জমানো টাকায় ট্রেড করেন, তখন লোকসান হলে কষ্ট লাগে, কিন্তু আতঙ্ক তৈরি হয় না। কিন্তু টাকাটি যখন ধার করা হয়, তখন আপনার মনের ওপর দ্বিগুণ চাপ থাকে:
ট্রেডে লাভ করার চাপ।
নির্দিষ্ট সময়ে টাকা ফেরত দেওয়ার চাপ।
এই অতিরিক্ত চাপের কারণে আপনি Logic (যুক্তি) দিয়ে নয়, বরং Emotion (আবেগ) দিয়ে ট্রেড করবেন। আর আবেগের বশবর্তী হয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত সাধারণত ভুলই হয়।
২. লোকসান মেনে নেওয়ার অক্ষমতা
ট্রেডিংয়ের একটি অলিখিত নিয়ম হলো— "ততটুকুই রিস্ক নিন, যতটুকু হারালে আপনার জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়বে না।"
কিন্তু ধারের টাকায় ট্রেড করলে আপনি লোকসান মেনে নিতে পারবেন না। যখন মার্কেট আপনার বিপরীতে যাবে, তখন লস কমানোর (Stop Loss) পরিবর্তে আপনি ট্রেড ধরে রাখবেন এই আশায় যে মার্কেট ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু অধিকাংশ সময় তা হয় না এবং পুরো পুঁজি শূন্য হয়ে যায়।
৩. ঋণের চক্রবৃদ্ধি ফাঁদ
আপনার যদি ট্রেডিংয়ে লাভও হয়, তবুও ধারের টাকার ওপর সুদ (Interest) বা মানসিক দায়বদ্ধতা আপনার লাভের অংশ কমিয়ে দেয়। আর যদি লস হয়, তবে পরিস্থিতি হয় ভয়াবহ:
একদিকে পুঁজি হারিয়ে যায়।
অন্যদিকে ঋণের বোঝা ঘাড়ে চাপে।
ঋণ শোধ করতে নতুন করে ঋণ নিতে হয়, যা আপনাকে সর্বস্বান্ত করে দিতে পারে।
৪. রিভেঞ্জ ট্রেডিং (Revenge Trading)
টাকা হারানোর পর মানুষের মনে তা দ্রুত পুনরুদ্ধার করার জেদ চাপে। একে বলা হয় 'রিভেঞ্জ ট্রেডিং'। ধার করা টাকা হারালে এই প্রবণতা মারাত্মক আকার ধারণ করে। তখন মানুষ বিচার-বুদ্ধি হারিয়ে আরও বড় রিস্ক নেয় এবং শেষ পর্যন্ত বড় বিপদে পড়ে।
✅ তাহলে করণীয় কী?
যদি আপনি সত্যিই ট্রেডার হতে চান, তবে এই পথগুলো অনুসরণ করুন:
শিখুন আগে, আয় পরে: টাকা বিনিয়োগের আগে সময় বিনিয়োগ করুন। টেকনিক্যাল ও ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিস শিখুন।
ডেমো ট্রেডিং করুন: আসল টাকা ব্যবহারের আগে ভার্চুয়াল মানি বা ডেমো অ্যাকাউন্টে প্র্যাকটিস করে নিজের দক্ষতা যাচাই করুন।
ছোট পুঁজি দিয়ে শুরু করুন: ধার না করে, নিজের জমানো খুব অল্প টাকা (যা হারালে আপনার সমস্যা হবে না) দিয়ে শুরু করুন।
সেভিংস বাড়ান: ট্রেডিংয়ের জন্য আলাদা ফান্ড তৈরি করুন, সংসারের বা জরুরি প্রয়োজনের টাকা এখানে আনবেন না।