বিশেষ করে যারা ইনভেস্ট করেছেন বা নিয়মিত ট্রেড করেন, তাদের জন্য সময়টা বেশ চ্যালেঞ্জিং। ২০২৬ সালের জানুয়ারির শেষ দিকে এসে বিটকয়েনের দামের এই বড় পতনের পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাজ করছে।

​সহজভাবে বোঝার জন্য নিচে কারণগুলো দেওয়া হলো:

​১. যুক্তরাষ্ট্রের ফেড রেজাল্ট ও নীতি নির্ধারণী অনিশ্চয়তা

​যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (Federal Reserve) সুদের হার কমানোর ব্যাপারে কোনো ইতিবাচক সংকেত দেয়নি। বরং নতুন ফেড চেয়ারপারসন হিসেবে এমন একজনের নাম (কেভিন ওয়ারশ) শোনা যাচ্ছে, যিনি বাজারের জন্য বেশ "কঠোর" হতে পারেন। এই আশঙ্কায় বড় বড় ইনভেস্টররা ঝুঁকি এড়াতে ক্রিপ্টো থেকে টাকা সরিয়ে নিচ্ছেন।

​২. ইটিএফ (ETF) থেকে বিশাল অংকের টাকা উত্তোলন

​গত কয়েকদিনে স্পট বিটকয়েন ইটিএফ থেকে প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূলধন বেরিয়ে গেছে। ব্ল্যাকরক (BlackRock) বা ফিডেলিটির (Fidelity) মতো বড় কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে যারা ইনভেস্ট করেছিলেন, তারা এখন প্রফিট বুক করছেন অথবা ভয় পেয়ে মার্কেট থেকে সরে যাচ্ছেন।

​৩. ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা

​মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার আশঙ্কা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন শুল্ক (Tariff) নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যখনই বিশ্বে যুদ্ধের দামামা বা অস্থিরতা বাড়ে, মানুষ তখন বিটকয়েনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ ছেড়ে সোনা (Gold) বা নগদ ডলারে বিনিয়োগ নিরাপদ মনে করে।

​৪. লিকুইডেশন এবং চেইন রিঅ্যাকশন

​মার্কেটে যখন হঠাত দাম কমতে শুরু করে, তখন যারা লিভারেজ (ধারে) নিয়ে ট্রেড করেন তারা বড় বিপদে পড়েন। গত ৩০ জানুয়ারি একদিনেই প্রায় ১.৮ বিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টো পজিশন লিকুইডেট (বাতিল) হয়ে গেছে। এটি অনেকটা ঝড়ের মতো—একজনের লস দেখে অন্যরা দ্রুত সেল অর্ডার দেন, ফলে দাম আরও হুড়মুড় করে পরে যায়।

​এখন আপনার কী করা উচিত?

​মার্কেট যখন "Extreme Fear" বা চরম ভয়ের জোনে থাকে, তখন প্যানিক সেল (ভয় পেয়ে লসে বিক্রি করা) সাধারণত বুদ্ধিমানের কাজ হয় না। ক্রিপ্টো মার্কেটের ইতিহাস বলছে, বড় পতনের পরেই আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়।

​টিপস: বর্তমান পরিস্থিতিতে আপনার পোর্টফোলিও বারবার চেক না করে একটু ধৈর্য ধরুন। মার্কেটে "Value Zone" বা কেনা যায় এমন দাম না আসা পর্যন্ত নতুন করে ইনভেস্ট না করাই ভালো। $BTC

BTC
BTCUSDT
69,977.8
+5.63%

$BNB

BNB
BNBUSDT
654.44
+0.05%

$ETH

ETH
ETHUSDT
2,039.37
+4.01%